সূত্র : ফাইল ছবি , সিতোরা নিউজ
কেন মালয়েশিয়া প্রবাসীদের উপর এতো জুলুম করা হচ্ছে

মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সেবা দেখলে মনে হয় যে আমরা বাংলাদেশের কোনো নাগরিক নই, মালয়েশিয়াতে যেসব প্রবাসী বসবাস করে তারা মনে হয় রোহিঙ্গা , আমি অত্যান্ত দুঃখিত যে নিজেকে রোহিঙ্গাদের সাথে তুলনা করতে হচ্ছে যদিও বাস্তবতা হলো এইযে মালয়েশিয়াতে প্রবাসীদের অবস্থা রোহিঙ্গাদের চেয়েও খারাপ , মালয়েশিয়াতে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা সারা জীবন শুধু কাজ করে দেশে টাকা পাঠিয়েই গেলো কিন্তু সেবা পাওয়ার বেলায় কচু পেলো |
ঢাকা শাহজালাল এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের সাথে যে কি ধরণের ব্যাবহার করা হয় সেটা না হয় নাই বললাম কিন্তু মালয়েশিয়া হাইকমিশনে সামান্য পাসপোর্ট রি -ইস্যুর ক্ষেত্রে যে পরিমান ভোগান্তি পেতে হয় তা আসলে বলে বোঝানো যাবে না | করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পূর্বের কথা না হয় নাই বললাম , করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পূর্বে তো হাইকমিশনে প্রবাসীরদের উপর যে পরিমান অত্যাচার হয়েছিল তা আপনারা অনেকেই জানেন , নিজের দেশের হাইকমিশনে ঢুকতে গেলে টাকা দিতে হতো, হাইকমিশনের ভিতরে হাইকমিশনের কর্মকর্তার চাইতে দালালের পরিমান বেশি ছিল , আবার দালালের চাইতে বেশি ছিল ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা | করণের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর আমাদের হাইকমিশন সরাসরি পাসপোর্ট আবেদন নেওয়া বন্ধ করে দেয়, নিয়ম করে দেয় যে , যারা পাসপোর্টের আবেদন করবে তাদের কে ডকুমেন্ট গুলো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হাইকমিশনের ঠিকানায় পাঠাতে হবে, তাদের এই নিয়মের উপর শ্রদ্ধা রেখে আমাদের হাজার হাজার প্রবাসী ভাইয়েরা তাদের পাসপোর্ট রি- ইস্যু করার জন্য আবেদন পাঠাতে থাকলেন হাইকমিশনের ঠিকানায়, কিন্তু কোথায় আছে না যেই লাও সেই কদু ! কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ও ব্যাঙ্ক ড্রাফট পাঠালেও ২ মাস পার হয়ে গেলো প্রবাসী ভাইয়েরা জানতে পারেনা যে তাদের আবেদন জমা হয়েছে কিনা |
শুধু কি তাই আবেদন পাঠানোর ৩ মাস পরে জানানো হয় যে আপনার আবেদন অসম্পূর্ণ , অনেকেরই দেখা গেছে যে ৫ মাস আগেই আবেদন করেছেন অথচ এখনো দেখা যাচ্ছে যে আপনার পাসপোর্টটি এখনো ঢাকাতেই আছে , আপনার পাসপোর্ট হাতে পেতে এখনো ২ মাস সময় লাগবে | কিন্তু এরই মধ্যে গত নভেম্বর মাসে রেক্যালিবাসী শুরু হওয়াতে প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে যেন এই সুযোগ তা হাতছাড়া না হয় | তাই বাংলাদেশ হাই কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন প্রবাসীদের পাসপোর্ট রি- ইস্যু এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য |

লেখাটি ভালো লাগলে- লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন