কিভাবে ভুয়া কনস্ট্রাকশন কোম্পানি চিনবেন

মালয়েশিয়াতে যাদের বর্তমানে ভিসা নেই , তাদেরকে ভিসা করতে হলে সর্বপ্রথম যেটি করতে হবে তা হলো কোনো কোম্পানি পছন্দ করতে হবে , অনেকেই বসের মাদ্ধমে ভিসা করবেন তাদের কোনো সমসসা নেই কিন্তু অনেকেই আবার বাহিরের কোম্পানির মাধ্যমে ভিসা করতে চান, তাই আমাদের আজকের লেখাটি তাদের জন্য যে কিভাবে আপনি কোম্পানির ভালো মন্দ বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন| যেহেতু এইবার সার্ভিস সেক্টরের কোনো ভিসা করা হচ্ছেনা , আপনাদের জানা থাকা দরকার যে এইবার শুধু কনস্ট্রাকশন, ফ্যাক্টরি , কৃষিকাজ এবং প্লানটেশন সেক্টরের ভিসা দেওয়া হবে যদি কেও আপনাকে বলে যে সার্ভিস সেক্টরের ভিসা করে দিবে তাহলে বুঝবেন যে সে এক নম্বরের বাটপার | যেসব ভাইয়েরা বাহিরের কোম্পানিতে ভিসা করে সাধারণত বেশির ভাগই কন্সট্রাকশন কোম্পানিতে করে থাকে , তাই নিচে আপনাকে আমরা দেখাবো যে কিভাবে আসল এবং ভুয়া কনস্ট্রাকশন কোম্পানি চিনবেন |

প্রথম ধাপ :-
আপনি যেই কোম্পানিতে ভিসা করতে চাচ্ছেন সেই কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য যাচাই করার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন https://malaysiadata.com/search, তারপর আপনার কোম্পানির নাম লিখে সার্চ করুন , সাথে সাথেই আপনার এই কোম্পানি কত সালে রেজিস্ট্রেশন করা , এই কোম্পানির আসল ঠিকানা কোথায় , এই কোম্পনির মূল কাজ কি ইত্যাদি জানতে পারবেন , আপনাকে যেই তথ্য গুলা জানাবে তা উপরের ছবির মতোই হবে |যদি দেখেন যে আপনার কোম্পানির সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য দেখাচ্ছে না তাহলে বুঝবেন যে এই কোম্পানি একদন নতুন এবং এই কোম্পানির তেমন কোনো কার্যক্রম নাই , তাই এই কোম্পানিতে আপনার ভিসা করবেন কিনা সেটা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে| আপনি যদি দেখেন যে এই কোম্পানির মূল কাজ কনস্ট্রাকশন , তাহলে আপনি দ্বিতীয় ধাপের কাজ গুলো সম্পন্ন করেন |

দ্বিতীয় ধাপ :-
এখন আপনাকে নিচের লিংকে ক্লিক করে সরাসরি CIDB এর ওয়েব সাইট এ যেতে হবে , আপনারা সবাই জানেন যে মালয়েশিয়াতে কোনো কনস্ট্রাকশন কোম্পনীতে ভিসা করতে হলে সেই কোম্পানির অবশ্যই CIDB লাইসেন্স থাকতে হবে , তাই এই লিংকে ক্লিক কোম্পানির CIDB লাইসেন্স চেক করুন করার পর উপরের ছবির মতো দেখা যাবে সেখানে শুধু "Nama Kontraktor " এর ঘরে আপনার কোম্পানির পুরা নাম লিখুন এবং "carian " বাটনে চাপ দিন , তাহলেই এই কোম্পানির CIDB লাইসেন্স আছে কিনা তা দেখতে পারবেন , এমনকি এই কোম্পানির CIDB এর গ্রেড কত তাও দেখতে পারবেন | কারণ একটা কোম্পানি কত গুলা ভিসা করতে পারবে তা নির্ভর করে কোম্পানির CIDB গ্রেড এর উপর | কোম্পানির গ্রেড জানা জরুরি , তাছাড়া দেখা যাবে যে কোম্পানি অনেক ছোট কিন্তু ভিসা করার জন্য টাকা নিচ্ছে অনেক লোকের থেকে , তাহলে বুঝবেন যে এই কোম্পানি পাকা বাটপার |
CIDB গ্রেড আছে মোট ৭ টি , কোন গ্রেডের কোম্পানি কত গুলা ভিসা করতে পারবে তা নিচে দেওয়া হলো : গ্রেড G1 : এই গ্রেডের কোম্পানি সাধারণ খুব ছোট ছোট কাজ পেয়ে থাকে কারণ এই গ্রেডের কোম্পানি ছোট হয়ে থাকে , এরা ১০টির বেশি ভিসা করতে পারবেনা নিয়ম অনুযায়ী|
গ্রেড G2 : এই গ্রেডের কোম্পানি সাধারণ খুব ছোট ছোট কাজ পেয়ে থাকে কারণ এই গ্রেডের কোম্পানি ছোট হয়ে থাকে , এরা ২০-২৫ টির বেশি ভিসা করতে পারবেনা নিয়ম অনুযায়ী|
গ্রেড G3 : এই গ্রেডের কোম্পানি জি২ এর চাইতে একটু বড়, তবে এরা নিয়ম অনুযায়ী ৩৫ টির বেশি ভিসা করতে পারবেনা |
গ্রেড G4 : এই গ্রেডের কোম্পানি মদ্ধম মানের কোম্পানি , আমাদের বাংলাদেশী অনেক ভাই যারা মালয়েশিয়াতে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি খুলে ভিসা করতেছে তারা বেশির ভাগই G4 এবং G5 লাইসেন্স করে ভিসা করে , তবে এই কোম্পানি নিয়ম অনুযায়ী ৫০ টির বেশি ভিসা করতে পারবেনা |
গ্রেড G5 : এই গ্রেডের কোম্পানি মদ্ধম মানের কোম্পানি , আমাদের বাংলাদেশী অনেক ভাই যারা মালয়েশিয়াতে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি খুলে ভিসা করতেছে তারা বেশির ভাগই G5 লাইসেন্স করে ভিসা করে , তবে এই কোম্পানি নিয়ম অনুযায়ী ৮০টির বেশি ভিসা করতে পারবেনা |
গ্রেড G6 : G6 এবং G7 প্রায় একই ধরণের গ্রেড , এই দুইটি গ্রেডের মধ্যে সামান্য পার্থক্য তবে খুব কম কোম্পানি আছে যারা সরাসরি এই গ্রেড পেয়ে থাকে কারণ কোম্পানির অনেক বড় না হলে সরাসরি এই লাইসেন্স CIDB দেয় না |
গ্রেড G7 : G6 এবং G7 প্রায় একই ধরণের গ্রেড, এরা সাধারণত সরাসরি বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ দেয় না , কারণ এরা যেহেতু বড় কোম্পানি তাই এরা বড় বড় কাজের কন্ট্রাক পেয়ে থাকে তারপর এরা ছোট কোম্পানি গুলোকে সাব-কন্ট্রাকে কাজ দিয়ে থাকে , তবে এই গ্রেডের কোম্পনি চাইলেই কয়েক হাজার ভিসা করতে পারবে অনায়াসেই |


লেখাটি ভালো লাগলে- লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন